Monday, February 23, 2015

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রঃ কক্সবাজার


পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার । বাংলাদেশের সব পর্যটন এলাকা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী পর্যটক আসে কক্সবাজারে। শুধু বাংলাদেশীরাই নয় সারা বছর জুড়েই বিদেশী পর্যটকদের ভিড়েই মুখরিত থাকে এই সুদর্শনীয় এলাকাটি । কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দাড়িয়ে সরাসরি সূর্যাস্ত দেখা যায় । এই সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২২ কিলোমিটার । বঙ্গোপসাগরের বুকে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেকোনো পর্যটকের মন কেড়ে নিতে পাড়ে ।


এখানে আসলে একসাথে পাহাড়, সমুদ্র এবং নদী ও সমতল ভুমি দেখার অপার সুযোগ মেলে । মহান সৃষ্টিকর্তা যেন রূপসী বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছেন এই বালুকাময় সমুদ্র সৈকতের বালুর আঁচলে ।
 
কক্সবাজার যাওয়ার ব্যবস্থাঃ
  • ঢাকা ও ঢাকার বাইরের যেকোনো শহর থেকে বাসে করে কক্সবাজার যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ।  
  • ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে কক্সবাজার যাওয়া যায় এসি এবং ননএসি দুই ধরনের বাসই চলাচল করে 
  • ঢাকা থেকে গ্রীন লাইন, সোহাগ পরিবহন, এস আলম, ইউনিক, চ্যালাঞ্জের, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ঈগল পরিবহন নিয়মিত চলাচল করে কক্সবাজারের উদ্দেশে সকাল ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত গাড়িগুলো কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় । 
  • আকাশপথে বাংলাদেশ বিমান, জিএমজি এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এর মাধ্যমে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে । জেট এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের কোন ট্যুর অপারেট করে না ।
থাকার ব্যবস্থাঃ
  • কক্সবাজারে হিলটপ ও হিলটাউন নামের ২ টি সরকারি রেস্ট হাউজ রয়েছে । এখানে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তারা থাকতে পারে । বেসরকারি ব্যক্তিদের থাকার জন্য স্থানীয় ডিসি অফিস থেকে অনুমতি নিতে হয় । 
  • কক্সবাজার শহরের সেরা হোটেলগুলো হল ওশেন প্যারাডাইজ, কোস্টাল পীস হোটেল, লং বিচ হোটেল,  সী গাল, সী প্যালেস, নিটল বে রেস্ট হাউজ, ড্রিমল্যান্ড, ডায়মন্ড প্যালেস, পানওয়া সানমুন এবং গার্ডেন হোটেল
কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর । তাই এখানে থাকা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই । 



এক নজরে কক্সবাজার জেলার দর্শনীয় স্থান সমুহঃ 
সমুদ্র সৈকত যার দৈর্ঘ্য ১২২ কিলোমিটার
কক্সবাজারের রামু
রাখাইন সম্প্রদায়ের উপাসনালয়
রামকোট বৌদ্ধ বিহার
রাখাইন পল্লী
উপজাতীয়দের বাজার
বার্মিজ মার্কেট
লবনের ক্ষেত
কলাতলী
কানা রাজার গুহা
নাফ নদী
বাঁকখালী নদী



কক্সবাজারের সেরা দর্শনীয় স্থান: সেন্টমার্টিন দ্বীপ

বিশ্বের অন্যতম বদ্বীপ বাংলাদেশ । আর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও রয়েছে নদী আর দ্বীপ । এ দেশের সেরা দ্বীপগুলোর মধ্যে অন্যতম দ্বীপ হল সেন্টমার্টিনএখানে বছরজুড়ে পৃথিবীর নানা দেশের বহু মানুষের ভিড় লেগেই থাকে । তারা এখানে দেখতে আসে প্রকৃতির চমৎকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে বেড়াতে আসে। তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপলব্ধি করে । কোনো কোনো পর্যটক এই সেন্টমার্টিন দ্বীপকেই বিশ্বের সেরা দ্বীপ বলে থাকেন ।

আপানার চিরকাঙ্ক্ষিত এই প্রবাল দ্বীপ এবং ছেঁড়াদিয়ার নির্জনতা আপনাকে বিমোহিত করবেই ।

কিভাবে যাবেন
  • ঢাকা থেকে বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে । কক্সবাজার থেকে ট্রলার কিংবা জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যেতে হবে ।
কোথায় থাকবেন
  • সেন্টমার্টিন এ স্থানীয় হোটেল অথবা কক্সবাজার শহরের যেকোনো হোটেলেই থাকতে পারবেন । 
  • কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর । তাই কক্সবাজার শহরের যেকোন হোটেলে রাতযাপন করা যায় ।
        
অবস্থান
সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ । জিঞ্জিরা, দক্ষিণ পাড়া, গলাছিরা ও চেরাদিয়া এই চারটি দ্বীপ নিয়েই ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ’ গঠিত । এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহানায় অবস্থিত ।
দ্বীপটি উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা । দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও ২০০ মিটার । দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিন ও পশ্চিম  দিকে সাগরে অনেক দূর পর্যন্ত রয়েছে অগণিত শিলাস্তূপ । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার । এই দ্বীপে প্রচুর পরিমানে নারিকেল পাওয়া যায় বলে এই দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে ।


পূর্বকথা
সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাচীন নাম ছিল জাজিরা । স্থানীয়দের মতে, আরব বণিকেরাই এই নাম দিয়েছিলেন । পরবর্তীকালে জাজিরা স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে । কিন্তু পরবর্তীতে ইংরেজরা একে সেন্টমার্টিন নামে অভিহিত করে বলে জানা যায় । এই দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা । এই দ্বীপের তিন দিকে রয়েছে শিলা, যা জোয়াররে সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে । এগুলোকে ধরলে এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার । ভূতাত্ত্বিকগণের মতে দ্বীপটির বয়স প্রায় ২০ লক্ষ বছর ।

কি আছে এই দ্বীপে ?
সেন্টমার্টিন দ্বীপের মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক কাঁকড়া, কাছিম, প্রবাল, মুক্তা আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়াম । প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩ প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায় । এছাড়াও রয়েছে ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণি ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেওড়া বন ছাড়া অন্য কোন প্রাকৃতিক বন নেই । দ্বীপের দক্ষিন দিকে প্রচুর পরিমাণে কেওড়ার ঝোপ-ঝাড় রয়েছে । এখানে কিছু পরিমাণে ম্যানগ্রোভ গাছও রয়েছে । অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শ্যাওড়া, সাগর লতা, বাইন গাছ ইত্যাদি ।

              --------***--------

লাবনী পয়েন্ট



কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি অংশের নাম লাবনী পয়েন্ট । প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসে  এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ।

কিভাবে যাবেন
  • ঢাকা থেকে বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে । কক্সবাজার শহরের পাশেই অবস্থিত লাবনী পয়েন্ট
কোথায় থাকবেন
  • কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর । তাই কক্সবাজার শহরের যেকোন হোটেলে রাতযাপন করা যায় ।


কি আছে এখানে
বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ । সকালবেলা দিগন্তে জলরাশি রক্তবর্ণের থালার মত সূর্য। সূর্য অস্তের সময় দিগন্তের চারদিকে আরও বেশি স্বপ্নিল রঙ মেখে সে বিদায় জানায় । এখানকার পানিতে গোসল, সূর্যাস্তের সময় মনোহারা দৃশ্য ভীষণ ভালো লাগার মতো ।

এখান থেকে সোজা পূর্ব দিকে হেঁটে হেঁটে চলে যাওয়া যায় হিমছড়ির দিকে । যতই সামনের দিকে  এগুবেন ততোই সুন্দর এ সৈকত । সকালবেলা বের হলে এ সৌন্দর্য আরও চোখে পড়ার মতো । শুধু সমুদ্র সৈকতেই নয় সকাল বেলা  এখানে দেখতে পাবেন নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্যসব মিলিয়ে এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও সৌন্দর্য আপনার চোখের পিপাসা কে ভরিয়ে দিতে পারে


For English Language you can visit : Beautiful Places in Bangladesh

ইনানী সমুদ্র সৈকত



কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ইনানী সমুদ্র সৈকত অবস্থিত পশ্চিমে সমুদ্র আর পূর্ব দিকে পাহাড়ের এক অপূর্ব জায়গাটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনাণী যেতে হয় যাবার পথে হাতের বাম পাশে পাহাড় র ঝর্ণার এবং ডান পাশে সাগর ও বালুকাময় অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে । সাগরপাড়ে বালির উপর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিশালাকার পাথর আর পাথর । সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে সেসব পাথরের উপর । বিকেল বেলা সূর্যাস্তের সময় ইনানী  সৈকতে দেখা মেলে লাল কাঁকড়ার মিছিল । বনভোজন আর গোসলের জন্য চমৎকার স্থান এই সমুদ্র সৈকতটি । এসব দৃশ্য দেখতে ভালোই লাগবে যেকোনো দর্শনার্থীর ।



কিভাবে যাবেন
  • কক্সবাজার থেকে ট্যাক্সি ক্যাব অথবা ছোট ছোট গাড়িতে করে ইনানী সমুদ্র সৈকতে যেতে হয় ।
কোথায় থাকবেন
  • কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর । তাই কক্সবাজার শহরের যেকোন হোটেলে রাতযাপন করা যায় ।

ছেড়া দ্বীপ



ছেড়া দ্বীপ হল একটি দ্বীপ । এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান । এর আয়তন প্রায় ৩ কিলোমিটার । সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এ দ্বীপটির অবস্থান ।
ছেড়া দ্বীপে দেখতে পাবেন অপরুপ প্রাকৃতিক দৃশ্য । সামুদ্রিক ঢেউ আর সারি সারি নারিকেল গাছ । প্রবাল পাথর আর পাথরের তৈরি বিভিন্ন কারুকার্য । চাঁদনী রাতে ছেড়া দ্বীপ সাজে তার অপরুপ সাজে । চাঁদনী রাতে যে কোন ভ্রমণকারীর মন ভরে যাবে ছেড়া দ্বীপের অপরূপ শোভা অবলোকন করে ।

কিভাবে যাবেন 
  • কক্সবাজার থেকে প্রথমে জাহাজ কিংবা যেকোনো নৌযানে করে সেন্টমার্টিন যেতে হবে । তারপর সেখান থেকে জাহজে করে ছেড়া দ্বীপে যেতে হবে । 
  • অথবা কক্সবাজার থেকেই সরাসরি যেকোনো নৌযানে করে সেন্টমার্টিন যেতে পারেন ।

কোথায় থাকবেন
  • সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজারে থাকার জন্য অনেক আবাসিক হোটেল রয়েছে । যেকোন হোটেলেই রাত্রি যাপন করা যায় ।
সতর্কতা
ছেড়া দ্বীপ জোয়ারের সময় অনেকাংশেই ডুবে যায় । তাই ভ্রমণকারীকে জোয়ারের সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় ।
            --------***--------

মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপ


বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ী দ্বীপ হল মহেশখালী কক্সবাজার থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কিলোমিটার এই দ্বীপের চারদিকে সমুদ্র মাঝখানে পাহাড় আর সমতল ভূমি শীতকালে বেশী পর্যটক দেখা যায় এই দ্বীপে



কিভাবে যাবেন

  • বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে মহেশখালীতে যাওয়ার বাহন হল শুধুমাত্র লঞ্চ, স্পীডবোট আর নৌকা ।
  •  কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যেতে হয়  
  • কক্সবাজারের কস্তরী ঘাট থেকে লঞ্চ, স্পীডবোট এবং নৌকা ছেড়ে যায় মহেশখালীর উদ্দেশ্যে। 
  • কক্সবাজার থেকে মহেশখালী পৌঁছাতে সময় লাগে - ঘণ্টা



কোথায় থাকবেন

  • মহেশখালীতে থাকার মতো মান সম্মত হোটেল নেই  
  • তাই থাকতে হলে কক্সবাজারে থাকতে হবে  
  • কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর তাই কক্সবাজার শহরের যেকোন হোটেলে রাতযাপন করা যায়
কক্সবাজার শহরের সেরা হোটেলগুলো হল ওশেন প্যারাডাইজ, কোস্টাল পীস হোটেল, লং
বিচ হোটেল,  সী গাল, সী প্যালেস, নিটল বে রেস্ট হাউজ, ড্রিমল্যান্ড, ডায়মন্ড প্যালেস, পানওয়া সানমুন এবং গার্ডেন হোটেল


For English Language you can visit : Beautiful Places in Bangladesh