প্রতি বছর বিশ্বের নানা দেশ থেকে
হাজার হাজার পর্যটক এই দ্বীপে বেড়াতে আসে। তারা সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপলব্ধি করে । কোনো কোনো পর্যটক এই সেন্টমার্টিন দ্বীপকেই বিশ্বের সেরা দ্বীপ বলে থাকেন ।
আপানার চিরকাঙ্ক্ষিত
এই প্রবাল দ্বীপ এবং ছেঁড়াদিয়ার নির্জনতা আপনাকে বিমোহিত করবেই ।
কিভাবে
যাবেন
- ঢাকা থেকে বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে । কক্সবাজার থেকে ট্রলার কিংবা জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যেতে হবে ।
কোথায়
থাকবেন
- সেন্টমার্টিন এ স্থানীয় হোটেল অথবা কক্সবাজার শহরের যেকোনো হোটেলেই থাকতে পারবেন ।
- কক্সবাজার কে বলা হয় আবাসিক হোটেলের শহর । তাই কক্সবাজার শহরের যেকোন হোটেলে রাতযাপন করা যায় ।
অবস্থান
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ
। জিঞ্জিরা, দক্ষিণ পাড়া, গলাছিরা ও চেরাদিয়া এই চারটি দ্বীপ নিয়েই ‘সেন্টমার্টিন
দ্বীপ’ গঠিত । এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং
মিয়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহানায় অবস্থিত ।
দ্বীপটি উত্তর ও
দক্ষিণে প্রায় ৫.৬৩ কিলোমিটার লম্বা । দ্বীপের প্রস্থ কোথাও ৭০০ মিটার আবার কোথাও
২০০ মিটার । দ্বীপটির পূর্ব, দক্ষিন ও পশ্চিম
দিকে সাগরে অনেক দূর পর্যন্ত রয়েছে অগণিত শিলাস্তূপ । সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই
দ্বীপের গড় উচ্চতা ৩.৬ মিটার । এই দ্বীপে প্রচুর পরিমানে নারিকেল পাওয়া যায় বলে এই
দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়ে থাকে ।
পূর্বকথা
সেন্টমার্টিন
দ্বীপের প্রাচীন নাম ছিল জাজিরা । স্থানীয়দের মতে, আরব বণিকেরাই এই নাম দিয়েছিলেন
। পরবর্তীকালে জাজিরা স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে বিখ্যাত হয়ে
ওঠে । কিন্তু পরবর্তীতে ইংরেজরা একে সেন্টমার্টিন নামে অভিহিত করে বলে জানা যায় ।
এই দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে লম্বা । এই দ্বীপের তিন
দিকে রয়েছে শিলা, যা জোয়াররে সময় তলিয়ে যায় এবং ভাটার সময় জেগে ওঠে । এগুলোকে ধরলে
এর আয়তন হবে প্রায় ১০-১৫ বর্গকিলোমিটার । ভূতাত্ত্বিকগণের মতে দ্বীপটির বয়স প্রায়
২০ লক্ষ বছর ।
কি আছে এই
দ্বীপে ?
সেন্টমার্টিন দ্বীপের
মূল আকর্ষণ সামুদ্রিক কাঁকড়া, কাছিম, প্রবাল, মুক্তা আর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের
প্রাকৃতিক এ্যাকুরিয়াম । প্রায় ৬৬ প্রজাতির প্রবাল, ১৮৭ প্রজাতির শামুক-ঝিনুক, ১৫৩
প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল, ১৫৭ প্রজাতির গুপ্তজীবী উদ্ভিদ ২৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক
মাছ, ৪ প্রজাতির উভচর ও ১২০ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায় । এছাড়াও রয়েছে ১৯ প্রজাতির
স্তন্যপায়ী প্রাণি ।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে
কেওড়া বন ছাড়া অন্য কোন প্রাকৃতিক বন নেই । দ্বীপের দক্ষিন দিকে প্রচুর পরিমাণে
কেওড়ার ঝোপ-ঝাড় রয়েছে । এখানে কিছু পরিমাণে ম্যানগ্রোভ গাছও রয়েছে । অন্যান্য
উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শ্যাওড়া, সাগর লতা, বাইন গাছ ইত্যাদি ।

No comments:
Post a Comment